নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে পৌরসভা নির্বাচনে নির্বাচনী আচরণবিধি মানছেন না প্রার্থীরা।
নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করেই প্রার্থীরা তাদের ভোটারদের কাছে ভোট প্রার্থনা করছেন।
প্রার্থীদের গণসংযোগ থেকে রঙিন ব্যানার, ফেস্টুন, পোস্টারিংসহ সব ক্ষেত্রেই আচরণবিধি লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটছে।
এ ব্যাপারে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সংশ্লিষ্টরা যেন নির্বিকার।
এভাবে চলতে থাকলে সামনে নির্বাচনী পরিবেশ উত্তপ্ত হতে পারে বলে আশঙ্কা করেছেন ভোটাররা।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে,
আগামী ১২ জুন নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার পৌরসভা নির্বাচনে চারজন মেয়র, সাধারণ সদস্য ৩৮ জন ও সংরক্ষিত আসনে ১০ জন প্রার্থী প্রার্থী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।
পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র প্রার্থীরা হলেন- আওয়ামী লীগের প্রার্থী আলহাজ্ব সুন্দর আলী, স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেক মেয়র হাবিবুর রহমান,
স্বতন্ত্র প্রার্থী আড়াইহাজার পৌরসভা আওয়ামী লীগের সভাপতি মেহের আলী মোল্লা ও স্বতন্ত্র প্রার্থী আড়াইহাজার উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মামুন অর রশিদ।
শনিবার (২০ মে) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত সরেজমিনে আড়াইহাজার পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে,
পৌরসভার দক্ষিণপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে ও দক্ষিণ পাড়া জামে মসজিদের সামনে দাশপাড়া মোড়,
নেহারী পল্লী, দাসপাড়া চৌরাস্তা, কামরাঙ্গিচর বাজার, হাটখোলা মোড়, বাঘানগর,
ঝাউঘড়া এলাকাসহ বেশকিছু স্থানে স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেক মেয়র হাবিবুর রহমানে রঙিন ছবি সম্বলিত ফেস্টুন ঝুলে রয়েছে।
অন্য স্বতন্ত্র প্রার্থী আড়াইহাজার উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মামুনুর রশিদ মাঝেরচর, চামুরকান্দি, মোল্লাবাড়ি, হোতারবাড়ির মোড়,
গাজিপুরার মোড়, মুকুন্দি, নাগের চর, নোয়াপাড়া, দীঘির পাড়, বাঘানগর, ঝাউঘরা এলাকাসহ বেশ কিছু এলাকায় রঙিন ফেস্টুন ঝুলিয়ে রেখেছেন।
অপর স্বতন্ত্রপ্রার্থী আড়াইহাজার পৌরসভা আওয়ামী লীগের সভাপতি মেহের আলী মোল্লার রঙিন পোস্টার-ফেস্টুন দেখা গেছে কৃঞ্চপুরা,
আড়াইহাজার বাড়ার, নয়াপাড়া, দীঘিরপাড়, বাঘানগর ও ঝাউঘরা এলাকাসহ বেশ কিছু এলাকায়।
পৌরসভা নির্বাচনের আচরণবিধিমালা ২০১৫ আইনে স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) আইন-২০০৯ এর ৫৮ নম্বর ও ১১৮ ধারায় উল্লেখ করা হয়েছে,
বাসস্থানের দেয়াল, অফিস, আদালত, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ব্যবসাকেন্দ্র, শিল্প-কারখানা, দোকান বা অন্য কোনো স্থাপনা, কাঁচা ও পাকা যাই হোক না কেন,
এর বাইরে ও ভেতরে দেয়াল বা বেড়া, এদের সীমানা নির্ধারণকারী দেয়াল বা বেড়া এবং বৃক্ষ, বিদ্যুৎ লাইনের খুঁটি, সড়ক দ্বীপ, সড়ক বিভাজক,
ব্রিজ, কালভার্ট, সড়কের উপরিভাগ ও বাড়ির ছাদে পোস্টার লাগানো যাবে না।
কিন্তু বেশিরভাগ প্রার্থীরাই নির্বাচনী আচরণবিধি না মেনেই রঙিন ফেস্টুন ও ব্যানার লাগিয়ে নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছেন।
আব্দুর রহমান নামে দাশপাড়া এলাকার একজন ভোটার জানান, নির্বাচনের তারিখ ঘোষণার পর থেকেই অনেক প্রার্থীরা নির্বাচনী আচরণবিধি লঙঘন করছেন।
এতে সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ নির্বাচন নিয়ে ভোটারদের মধ্যে উদ্বেগ ও উত্কণ্ঠা দেখা দিয়েছে।
এ বিষয়ে আড়াইহাজার পৌরসভার স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেক মেয়র হাবিবুর রহমান জানান, বিষয়টি আমার জানা নেই।
তবে আমার কর্মীরা যদি ফেস্টুন সাঁটিয়ে থাকেন তাহলে খুব শিগগিরই এগুলো সরানোর ব্যবস্থা করব।
এ বিষয়ে স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী আড়াইহাজার পৌরসভা আওয়ামী লীগের সভাপতি মেহের আলী মোল্লা জনান,
আমার প্রতিপক্ষ রাজনীতির মাঠে ঘায়েল করতেই বিভিন্ন স্থানে আমার ছবি লাগাতে পারেন। তবে আমি বিষয়টি খোঁজ-খবর নিয়ে সরিয়ে ফেলার ব্যবস্থা করছি।
এ বিষয়ে আরেক স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী আড়াইহাজার উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মামুন অর রশিদের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
আড়াইহাজার পৌরসভা নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা রবিউল আলম জানান, নির্বাচনে অংশ নেওয়া যেসকল প্রার্থীরা এখনও ফেস্টুন-ব্যানার সরিয়ে নেননি
তাদের ইতিমধ্যেই চিঠি দেওয়া হয়েছে। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে এগুলো না সরালে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
