আমদানির সিদ্ধান্তে পেঁয়াজের দাম কমানো হলো বাজারো

দেশের পাইকারি আর খুচরা বাজারগুলোতে জিনিসপত্রের অস্বাভাবিকভাবে দাম বেড়ে যাওয়ায় ভোক্তাদের স্বার্থরক্ষায় পেঁয়াজ আমদানির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সোমবার (৫ জুন) থেকে পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি দেবে কৃষি মন্ত্রণালয়। সকল ভোক্তার স্বার্থ রক্ষায় রোববার (৪ জুন) কৃষি মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এমন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

উক্ত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়,

‘সোমবার থেকে পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি দেবে কৃষি মন্ত্রণালয়।

পেঁয়াজের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় সীমিত আয়ের, শ্রমজীবী মানুষের কষ্ট লাঘবসহ সব ভোক্তার স্বার্থ রক্ষায় এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে কৃষি মন্ত্রণালয়।’

পেঁয়াজ উৎপাদন করে কৃষক যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেজন্য কৃষকের স্বার্থ সুরক্ষায় গেল ১৫ মার্চ থেকে পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি বন্ধ রাখা হয়েছিল।

প্রসঙ্গত, বেশ কিছুদিন ধরেই দেশের পেঁয়াজের বাজার অস্থির।

পেঁয়াজ উৎপাদন করে কৃষক যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হন, সে জন্য কৃষকের স্বার্থ সুরক্ষায় বিগত ১৫ মার্চ থেকে পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি বন্ধ রাখা হয়েছিল।  এরপর থেকেই বাড়তে থাকে পেঁয়াজের দাম।

যে পেঁয়াজের কেজি মার্চ মাসেও ৩০ থেকে ৩৫ টাকা ছিল, সেটি দেশের সবচেয়ে বড় পাইকারি বাজার চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জে ৮৫ থেকে ৯৫ টাকা দরে বিক্রি হয়।

আমদানির খবরে খাতুনগঞ্জেও কমতে শুরু করেছে পেঁয়াজের দাম।

চাকতাই-খাতুনগঞ্জ আড়তদার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আবুল কাসেম জানান,

‘রোববার (০৪ জুন) সকালেও খাতুনগঞ্জে পাইকারিতে ৯০ টাকা করে পেঁয়াজ বিক্রি হয়।

কৃষি মন্ত্রণালয় পণ্যটি আমদানির অনুমতি দেয়ার খবরে সন্ধ্যায় ৭০ টাকা কেজি দরে বিক্রি শুরু হয়েছে। দাম আরও কমবে।’

এর আগে, রোববার (৪ জুন) ঢাকার আগারগাঁওয়ে পর্যটন ভবনে

এক সেমিনার শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক বলেছিলেন,

‘পেঁয়াজ আমদানির বিষয়টি আমাদের জন্য উভয়সংকটের মতো।

পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি দিলে দাম অনেক কমে যায়, কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়; পেঁয়াজ চাষে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন তারা।

আর আমদানি না করলে দাম বেড়ে যায়, ভোক্তাদের কষ্ট হয়।

সে জন্য সবসময়ই আমরা চাষি, উৎপাদক ও ভোক্তাসহ সবার স্বার্থ বিবেচনা করেই আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকি।’

‘পেঁয়াজে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনে কাজ করছে কৃষি মন্ত্রণালয়।

গত দু’বছরে দেশে পেঁয়াজের উৎপাদন বেড়েছে ১০ লাখ টন।

দু’বছর আগে যেখানে উৎপাদন হতো ২৫ লাখ টনের মতো, এখন উৎপাদন হচ্ছে প্রায় ৩৫ লাখ টন।

আরও পড়ুন:

এনএএন টিভি