নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য একে এম শামীম ওসমান বলেছেন, আমাদের সবাইকে প্রস্তুতি নিতে হবে।
আগামী দুই-তিন মাস ওই খুনিরা অতীতে যেই ধরনের ঘটনা ঘটিয়েছে তার চেয়েও ভয়ংকর ধরনের ঘটনা ঘটানোর চেষ্টা করবে।
বাংলাদেশকে তারা ব্যর্থ রাষ্ট্র করার জন্য লন্ডন থেকে বসে এবং
মৌলবাদী শক্তির উত্থানের জন্য যা যা কিছু পরিকল্পনা করার দরকার তারা তা করছে।
আজ মঙ্গলবার সিদ্ধিরগঞ্জের সানারপাড় এলাকায় ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের উদ্যোগে মিলাদ ও দোয়ার আয়োজনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, শোকের দিনে একটা কথা বলতে চাই, ৭৫ এর ১৫ই আগস্টে একসঙ্গে ২৬ জনকে হত্যা করা হয়েছে।
আল্লাহ তায়ালার অশেষ রহমত যে দুই (শেখ হাসিনা ও শেখ রেহেনা) বোন সেদিন জার্মানিতে ছিলেন।
সেদিন সমস্ত স্বপ্ন ধ্বংস করে দেয়া হয়েছিল, আমরা স্বপ্ন দেখা ভুলে গিয়েছিলাম।
আল্লাহ তায়ালার হুকুমে শেখ হাসিনা থাকাতে বাংলাদেশের মানুষ আবার স্বপ্ন দেখছে এবং স্বপ্ন বাস্তবায়ন করছে।
শামীম ওসমান বলেছেন, আওয়ামী লীগ করি বা কোন দল করি সেটা ব্যাপার না।
এ দেশটা আমাদের সবার, এ দেশটাকে বাঁচাতে হবে।
বঙ্গবন্ধু চলে যাওয়ার পর দেশ পিছিয়ে গিয়েছিলেন, শেখ হাসিনা চলে গেলে দেশ আর আগাতে পারবে না।
অন্তত পক্ষে আগামী ৫০ বছরেও। বাংলাদেশের মানুষের সম্পদ শেখ হাসিনা।
তিনি স্বপ্ন দেখান এবং স্বপ্ন বাস্তবায়ন করান। শোককে শক্তিতে রুপান্তরিত করে বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করাচ্ছেন।
আমাদের সকলের তার পেছনে দাড়ানো প্রয়োজন।
দেলোয়ার সাঈদীর মৃত্যু নিয়ে শামীম ওসমান বলেন, দেলোয়ার হোসেন সাঈদীকে চাঁদে দেখা গেছে এমন কথা বলে ২১ জন মানুষকে হত্যা করা হয়েছিল।
যারা দেলোয়ার হোসেন সাঈদীকে চাঁদে দেখা গেছে বলে ইসলামকে ব্যবহার করে মানুষকে হত্যা করে তাদের কাছে এর চেয়ে বেশি ভালো কিছু আশা করা যায় না।
যারা ৭১ সালে আমাদের ৩০ লক্ষ মানুষের রক্ত নেয়ার জন্য পাকবাহিনীকে সাহায্য করেছে তাদের কাছে এর চেয়ে ভালো আশা করা যায় না।
পৃথিবীর কোনো দেশে নাই যারা স্বাধীনতার বিরোধীতা করেছিলো তারা রাজনীতির সুযোগ পায়।
আমাদের দেশই একটা অভাগা দেশ যেখানে ওরা এখানো কথা বলে যাচ্ছে, আর আমাদের তরুণ সমাজ চুপ করে তাদের কথা শোনে।
আমার মনে হয় ৩০ লক্ষ শহীদের আত্মা আর দুই লক্ষ মা-বোনের সম্ভ্রম তাদের বিবেকের কাছে আজকে লজ্জিত হচ্ছে,
তাদের বিবেকে প্রশ্ন আসছে যে কেনো কথা বলবে? তাই সবার উদ্দেশ্যে বলি এবার ঘুমিয়ে না থেকে জেগে উঠুন, দেশকে বাঁচাতে হবে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি মজিবুর রহমান,
সাধারণ সম্পাদক হাজী ইয়াছিন মিয়া, নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহ নিজাম,
নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মোঃ এহসানুল হাসান নিপু,
সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামী যুবলীগের সভাপতি নাসিক ৬নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মতিউর রহমান মতি,
নাসিক প্যানেল মেয়র কাউন্সিলর শাহ জালাল বাদল, শ্রমিক নেতা মোঃ আশরাফ উদ্দিন,
সিদ্ধিরগঞ্জ থানা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি প্রার্থী আমিনুল হক ভূইয়া রাজু, যুবলীগ নেতা তোফায়েল হোসেন,
সিদ্ধিরগঞ্জ থানা নেতা খন্দকার মানিক মাস্টার, সিদ্ধিরগঞ্জ আদমজী আঞ্চলিক শ্রমিক লীগের আহ্বায়ক আব্দুস সামাদ বেপারী,
যুবলীগ নেতা হুমায়ুন কবির প্রমুখ।
এছাড়াও সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

Comments are closed.