নারায়নপুর রাবেয়া মহাবিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা আবদুল হামিদ এম.এস সির ৩৫তম মৃত্যুবার্ষিকতে আলোচনা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে।

আজ ৬ই অক্টোবর নরসিংদীর বেলাব নারায়নপুর রাবেয়া মহাবিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা আবদুল হামিদ এম.এসসি এর মাজার প্রাঙ্গনে নারায়নপুর রাবেয়া মহাবিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো: মজিবুর রহমান এর সভাপতিত্বে ও শিক্ষক মো: জহিরুল ইসলাম মৃধার পরিচালনায় আলোচনা ও দোয়া মাহফিলে অংশগ্রহন করেন আবদুল হামিদ এম এস সি এর কন্যা বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ খালেদা বেগম। এ সময় আরোও উপস্থিত ছিলেন মোহনা টিভির স্টাফ রির্পোটার সুরাইয়া মুন্নী, কলেজ জিবি সদস্য মো: সালাহ উদ্দিন,মো: কামাল হোসেন,জাহানুল হক বাবুল,তাজুল ইসলাম। আবদুল হামিদ এম এস সির মাজারে পুষ্প অর্পণ করেন নারায়নপুর রাবেয়া মহাবিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র পরিষদ সদস্য সচিব মিজানুর রহমান মোল্লা,লাল সবুজ চেতনা সংসদ এর সভাপতি কাজী শামীম হাসান, সাধারন সম্পাদক নাজমুল হাসান রোস্তম,সহ-সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন সবুজ,সহ-সভাপতি খোরশেদ আলম সহ স্থানীয় নেতবৃন্দ।

নারায়নপুর রাবেয়া মহাবিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র পরিষদ ও লাল সবুজ চেতনা সংসদ এর প্রধান উপদেষ্টা ঢাকা দক্ষিন সিটি করপোশনের তত্ত্ববধায় প্রকৌশলী খাইরুল বাকের সাথে আলাপ কালে বলেন, নরসিংদীর নারায়নপুর রাবেয়া মহাবিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা মেধাবী আবদুল হামিদ এম এস সি দেশ বরন্য শিক্ষাবিদ ছিলেন। তিনি একজন বড় মাপের দেশ প্রেমিক মহান পুরুষ ছিলেন, এই এলাকার মানুষকে শিক্ষিত করার জন্য, জ্ঞানভিত্তিক ন্যায়ভিত্তিক সমাজ ও দেশ গঠনের জন্য কেমন আদর্শভিত্তিক রাজনীতির প্রবর্তন করতে চেয়েছিলেন, কমবেশি এর প্রচার হয়েছে আমাদের সমাজে।

কিন্তু কত বেশি প্রতিবন্ধকতার মধ্য দিয়ে তিনি তাঁর সময় পার করেছিলেন, সেসব আমাদের অনেকের জানাই নেই। যেমন এলাকার মানুষ ও তাঁর অনুসারীগণ জানতেন, আবদুল হামিদ নারায়ণপুর এলাকায় একটি কলেজ প্রতিষ্ঠার জন্য ১৯৪৬ সাল হতে চেষ্টা করে এসেছিলেন। আমিও এতদিন সেটাই জানতাম।
কিন্তু ডকুমেন্ট বলে অন্য কথা। অন্যান্য ডকুমেন্টের সাথে এই ডকুমেন্ট পাওয়ার পর আমি আরও আবেগ আপ্লুত হয়ে গেলাম। তিনি ১৯৪১ সালে নারায়ণপুর সরাফত উল্লাহ উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পরপর ১৯৪২ সালের ২৪শে নভেম্বর তারিখে একটি নতুন কলেজ প্রতিষ্ঠার জন্য কোলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার বরাবর আবেদন করেছিলেন। তখন তিনি ঢাকা জেলা বোর্ডের নির্বাচিত সদস্য ছিলেন। আবেদনের কপি সকলের জন্য নিম্নে সংযুক্ত করলাম।
সময় গড়িয়ে যাচ্ছে। একটা বিষয়ে জরুরী কার্যক্রম নেওয়া প্রয়োজন। ক) শ্রমবাদ, খ) জাতি ও ভূখন্ড দর্শন নিয়ে গবেষণা করা প্রয়োজন। তাঁর অনেক কর্ম দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে আছে, তদানীন্তন পাকিস্থান পার্লামেন্টেও অনেক রেকর্ড রয়েছে। আবদুল হামিদ সমস্ত কর্ম, রাজনীতি ও আদর্শ নিয়ে গবেষণা করা জরুরী। পূর্ণাঙ্গ জীবনী উদ্ধার করা প্রয়োজন। তার ভাল কর্মকান্ড থেকে শিক্ষা নেওয়া দরকার আছে।
তাঁর প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠানগুলোকে সুষ্ঠু পরিচালনার মাধ্যমে তাঁর আদর্শ বাস্তবায়িত হবে। উনার মত মহান পুরুষের জন্য ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র স্মারক নয়, এক সময় তাঁর নামে বাংলাদেশে একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হবে ইনশাআল্লাহ। আমার মধ্যে সেই আশা লালন করে তাঁর আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি। তার সম্মানে স্মৃতি ধরে রাখার জন্য নারায়নপুর রাবেয়া মহাবিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র পরিষদ ও লাল সবুজ চেতনা সংসদ এর পক্ষ থেকে আমার প্রচেষ্টায় কবর স্থান নির্মান করা হয়েছে। কলেজ এর ৪তলা নতুন ভবন নির্মানের প্রচেষ্টা করা হচ্ছে।
