যক্ষ্মা প্রতিরোধে মণিরামপুরে বসুন্ধরা শুভসংঘের সচেতনতামূলক সভা

‘যক্ষ্মা হলে রক্ষা নাই’-এ ধারণা ভুল। সময়মতো রোগ শনাক্ত করে নিয়মিত ও পূর্ণ মেয়াদে চিকিৎসা নিলে যক্ষ্মা সম্পূর্ণ নিরাময় সম্ভব। এ রোগের লক্ষণ, প্রতিরোধ ও চিকিৎসা সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে যশোরের মণিরামপুরে শিক্ষার্থীদের নিয়ে সচেতনতামূলক সভা করেছে বসুন্ধরা শুভসংঘ।

আজ মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) মণিরামপুর সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে যক্ষ্মার লক্ষণ দেখা দিলে অবহেলা না করা, দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং চিকিৎসা সম্পর্কে প্রচলিত ভ্রান্ত ধারণা দূর করার ওপর গুরুত্ব দেন বক্তারা।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ব্র্যাক হেলথ সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, মণিরামপুর উপজেলায় প্রতি মাসে অন্তত ৮০ জন মানুষ যক্ষ্মায় আক্রান্ত হচ্ছেন। এ পরিস্থিতিতে রোগটি সম্পর্কে মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং আক্রান্ত ব্যক্তিদের চিকিৎসার আওতায় আনা জরুরি বলে মনে করেন আয়োজকেরা।

সভায় বক্তারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে কাশি, কাশির সঙ্গে কফ বা রক্ত বের হওয়া, জ্বর, রাতে ঘাম হওয়া, ক্ষুধামন্দা, ওজন কমে যাওয়া ও দুর্বলতা যক্ষ্মার উল্লেখযোগ্য লক্ষণ হতে পারে। বিশেষ করে দুই সপ্তাহ বা তার বেশি সময় কাশি থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। তবে এসব লক্ষণ দেখা দিলেই যে যক্ষ্মা হয়েছে, তা নিশ্চিত নয়। পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে রোগ নির্ণয় করা প্রয়োজন।

বক্তারা আরও বলেন, ফুসফুসের যক্ষ্মা আক্রান্ত ব্যক্তির কাশি বা হাঁচির মাধ্যমে বাতাসে জীবাণু ছড়িয়ে পড়তে পারে। তাই কাশির সময় মুখ ঢেকে রাখা, ঘরে পর্যাপ্ত আলো-বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা করা, প্রয়োজন অনুযায়ী মাস্ক ব্যবহার এবং ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা জরুরি। যক্ষ্মা শনাক্ত হলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ নিয়মিত সেবন করতে হবে। মাঝপথে ওষুধ বন্ধ করলে রোগ জটিল হতে পারে এবং ওষুধ-প্রতিরোধী যক্ষ্মার ঝুঁকি বাড়তে পারে।

বসুন্ধরা শুভসংঘ মণিরামপুর উপজেলা শাখার সভাপতি এস এম হাফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান আকাশের সঞ্চালনায় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. সিরাজুল ইসলাম তালুকদার।

সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক জি এম মমিনুর রহমান, প্রণয় কুমার বিশ্বাস, কার্তিক চন্দ্র হালদার ও স্বপ্নীল মল্লিক রিজু।

এ সময় বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক মো.ওয়াহিদুজ্জামান, আখতারুজ্জামান, মিলন মণ্ডল, নাজমা খাতুন, ফাতিমা খাতুন, শাহরিয়ার রহমান, মোস্তাফিজুর রহমান ও মো. ইয়াছিন আলী উপস্থিত ছিলেন। আরও উপস্থিত ছিলেন বসুন্ধরা শুভসংঘের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক প্রবীর সরকার, সদস্য কাইয়ুম হাসান শিমুল, দৈনিক কালের কণ্ঠের প্রতিনিধি অধ্যাপক মোহাম্মদ বাবুল আকতারসহ বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং শুভসংঘের অন্যান্য সদস্য।

প্রধান শিক্ষক মো. সিরাজুল ইসলাম তালুকদার বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের মধ্যে যক্ষ্মার মতো রোগ সম্পর্কে সঠিক ধারণা ছড়িয়ে দিতে হবে। “যক্ষ্মা হলে রক্ষা নাই”-এই ভ্রান্ত ধারণা সমাজ থেকে দূর করতে হবে। নিয়মিত চিকিৎসায় যে যক্ষ্মা ভালো হয়, সেই বার্তা ঘরে ঘরে পৌঁছে দিতে হবে।’

সভাপতি এস এম হাফিজুর রহমান বলেন, ‘তারুণ্যের শক্তিকে কাজে লাগিয়ে বসুন্ধরা শুভসংঘ সব সময় সমাজকল্যাণমূলক কাজে ভূমিকা রাখছে। যক্ষ্মার বিরুদ্ধে আমাদের এই সচেতনতামূলক উদ্যোগ শুধু একটি সভার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এর মাধ্যমে মানুষের মধ্যে রোগটি সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানো এবং আক্রান্ত ব্যক্তিদের চিকিৎসা নিতে উৎসাহিত করাই আমাদের লক্ষ্য।’

বসুন্ধরা শুভসংঘ মণিরামপুর উপজেলা শাখার সহসভাপতি চিকিৎসক ডা. হাবিবুর রহমান বলেন, ‘যক্ষ্মা এখন আর অনিরাময়যোগ্য কোনো রোগ নয়। সচেতনতা, সময়মতো রোগ শনাক্তকরণ এবং নিয়ম মেনে চিকিৎসা গ্রহণের মাধ্যমে এ রোগ থেকে সুস্থ হওয়া সম্ভব। যক্ষ্মার লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে পরীক্ষা করাতে হবে এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধের পূর্ণ কোর্স শেষ করতে হবে।’

সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে যক্ষ্মা সম্পর্কে ভীতি ও ভুল ধারণা দূর করা, রোগের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত পরীক্ষা করানো এবং আক্রান্ত ব্যক্তিদের নিয়মিত চিকিৎসা গ্রহণে উৎসাহিত করার আহ্বানের মধ্য দিয়ে সভা শেষ হয়।

 

 

এনএএন টিভি

Share this news as a Photo Card