স্ত্রী ও মেয়েকে খুন করে খালে ফেলে পালিয়ে যায় স্বামী, অবশেষে গ্রেপ্তার
লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে খাল থেকে নারী ও শিশুর মরদেহ উদ্ধারের ১৫ দিনের মাথায় হত্যার রহস্য উদঘাটন করেছে র্যাব। নিহতরা মা ও মেয়ে ছিল।
এ ঘটনায় স্বামী জামাল উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব।
পারিবারিক কলহের জের ধরে তিনি স্ত্রী রওশন আরা বেগমকে (৩০) গলা টিপে ও ঘুমন্ত শিশু নুসরাতকে (১) বালিশচাপা দিয়ে হত্যা করেছে।
আজ শুক্রবার দুপুরে র্যাব-১১-এর নোয়াখালী ক্যাম্পের কম্পানি অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কমান্ডার মাহমুদুল হাসান ব্রিফ করে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
গ্রেপ্তার জামাল চাঁদপুর জেলার মতলব দক্ষিণের বহরী গ্রামের রুহুল আমিন মিঝির ছেলে।
ভিকটিম রওশন তার দ্বিতীয় স্ত্রী ও ফরিদপুর জেলার কোতোয়ালি থানার আজোলবেড়া গ্রামের কেরামত আলীর মেয়ে।
র্যাব জানায়, জিজ্ঞাসাবাদে জামাল হত্যার ঘটনা স্বীকার করেছে।
জামালের বরাত দিয়ে র্যাব জানায়, ২০১৯ সালে বিয়ের পর থেকে জামাল ও রওশনের সঙ্গে পারিবারিক বিরোধ চলে আসছিল।
তারা দীর্ঘদিন ধরে ঢাকার রায়েরবাগ এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন।
গত ১৫ এপ্রিল দাম্পত্য কলহের জেরে স্ত্রী রওশনকে গলা টিপে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়।
পরে ঘুমন্ত অবস্থায় এক বছরের শিশুকন্যাকে বালিশচাপা দিয়ে হত্যা করে পাষণ্ড জামাল।
পরে বাসার মালামালসহ দুইজনের লাশ ওয়ার্ডরোবে করে পিকআপ ভ্যানের মাধ্যমে নোয়াখালীর উদ্দেশে জামাল ঢাকা থেকে রওনা দেয়।
কিন্তু নোয়াখালী না গিয়ে লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জের দুইটি পৃথক স্থানে ব্রিজের নিচে লাশগুলো খালে ফেলে দেয়।
১৯ এপ্রিল রামগঞ্জ-সোনাইমুড়ি সড়কের পাশে খালের হানুবাইশ ব্রিজের নিচে শিশু ও পার্শ্ববর্তী আলীপুর এসপি বাড়ির সামনের ব্রিজের নিচ থেকে নারীর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
ওই দিন রাতে রামগঞ্জ থানায় অজ্ঞাতনামা আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করে পুলিশ। হত্যাকাণ্ডটি জামাল একাই করেছেন বলে জানিয়েছেন।
আরও পড়ুন : নারায়ণগঞ্জে বয়লার বিস্ফোরণে একে একে নিহত ৪
র্যাব-১১-এর নোয়াখালী ক্যাম্পের কম্পানি অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কমান্ডার মাহমুদুল হাসান জানান,
মরদেহগুলো উদ্ধারের পর প্রাথমিকভাবে মা ও মেয়ে হিসেবে শনাক্ত করা হয়।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ফরিদপুর জেলার মধুখালী থানায় এক নারী ও এক শিশুর নিখোঁজ ডায়েরি রয়েছে। পরে নিহতের স্বজনরা এসে মরদেহ শনাক্ত করে।

Comments are closed.