ডেঙ্গু রোগের কোনো লক্ষ্মণ ছিল না চার বছরের শিশু আবিদ খানের। ছিল শরীরে ছোপ ছোপ দাগ। তাই তাকে এক শিশু বিশেষজ্ঞকে দেখানো হয়েছিল। তিনি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে ডেঙ্গু জ্বরের লক্ষ্মণ দেখে চিকিৎসা দেন।
পরবর্তীতে ঢাকায় নিয়ে জানা যায়, শিশুটির ডেঙ্গু হয়নি বরং রক্তের প্লাটিলেট তৈরি হচ্ছিল না। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় যাকে বলা হয় ‘থ্রোম্বোসাইটোপেনিয়া’।
আর এই অসুস্থতা প্রকাশের মাত্র এক মাসের মধ্যেই মারা যায় শিশুটি। মঙ্গলবার (২ মে) রাত ১১টার দিকে ঢাকার বিএসএমএমইউ হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।
আদিব খান ফরিদপুর শহরের রথখোলা এলাকার বাসিন্দা ব্যবসায়ী কাইয়ুম খানের ছেলে। এক বোন ও এক ভাইয়ের মধ্যে আদিব ছোট ছিল।
পারিবারিক সূত্র জানায়, গত রমজানের শুরুর দিকে আদিবের শরীরে ছোপ ছোপ দাগ দেখতে পেয়ে তার মায়ের মনে সন্দেহ হয়।
এরপর ফরিদপুরের একটি প্রাইভেট হাসপাতালে একজন শিশু বিশেষজ্ঞকে দেখানো হলে তিনি পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর ডেঙ্গু জ্বর সন্দেহে চিকিৎসা দিচ্ছিলেন।
তবে কাঙ্ক্ষিত উন্নতি না দেখে অভিভাবকেরা বাচ্চাকে গত মাসের ৪ এপ্রিল ঢাকায় নিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালে ভর্তি করেন।
সেখানে বোনম্যারো টেস্ট করার পর আদিবের শরীরের রক্তে প্লাটিলেট কমে যাওয়ায় বিষয়টি ধরা পড়ে।
আদিবের বাবা কাইয়ুম খান জানান, ফরিদপুরে এই রোগের চিকিৎসা তো দুরের কথা, পরীক্ষা-নিরীক্ষারও সুযোগ নেই।
ঢাকায় নিয়ে তার সন্তানের বোনম্যারো টেস্ট করানোর পর চিকিৎসকেরা জানতে পারেন তার রক্তের প্লাটিলেট তৈরি হচ্ছে না।
সন্তানের উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে নিয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়া চলছিল। পাসপোর্ট করাও হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু আমরা আর সময় পেলাম না।
তিনি বলেন, ‘ঢাকার বিএসএমএমইউ হাসপাতাল ছাড়াও আমরা ইবনেসিনা হাসপাতাল এমনকি দেশের সবচেয়ে ব্যয়বহুল এভারকেয়ার তথা স্কয়ার হসপিটালেও ছুটে গিয়েছি।
বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করিয়েছি। কিন্তু এই রোগের সুচিকিৎসার এখনও সঙ্কট রয়েছে দেশে।’
আজ বুধবার সকালে শহরের পশ্চিম খাবাসপুরে শামসুল উলুম মাদরাসা মাঠে জানাজা শেষে আদিবকে শহরের আলীপুর কবরস্থানে দাফন করা হয়।
আরও পড়ুন:

Comments are closed.