নরসিংদীর কৃতি সন্তান স্বাধীনতা পদকপ্রাপ্ত ভাষা সৈনিক এর প্রতি ফুল দিয়ে শ্রদ্ধ্রা নিবেন

নরসিংদীর কৃতি সন্তান স্বাধীনতা পদকপ্রাপ্ত ভাষা সৈনিক প্রয়াত এ কে এম বজলুর রহমান শাহাদত বার্ষিকী পালিতে প্রতিকৃতিতে ফুল শ্রদ্ধ্রা নিবেন । আজ সকালে নরসিংদীর আলীনগরে স্বাধীনতা পদকপ্রাপ্ত প্রয়াত এ কে এম বজলুর রহমান ও শাহানারা বেগম ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শাহানারা বেগম প্রয়াত এ কে এম বজলুর রহমানের প্রতিকৃতিতে ফুল শ্রদ্ধ্রা নিবেন করেন।
জানাগেছে,জাতীর জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর রাজনীতিক সহচর, এস এস এফ প্রধান মেজর জেনারেল মো: মুজিবুর রহমানের পিতা মুক্তিযোদ্ধের অন্যতম সংগঠক বর্ষিয়ান রাজনীতিবীদ ভাষা সৈনিক প্রয়াত এ.কে.এম বজলুর রহমান দেশের মানুষকে স্বাধীন করতে জাতীর জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর সাথে বার বার কারা বরণ করেছেন।
তিনি সু-বক্তা হিসেবে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করে ছিলেন তিনি আলোকিত মানুষ হিসেবে দেশ স্বাধীনতার জন্য মহান মুক্তিযুদ্ধে, রাজনীতিক ,সামাজিক বিভিন্ন কর্মকান্ডে বিশেষ অবদান রেখে আমাদের মাঝে আজীবন অমর হয়ে থাকবে। তার দেশ প্রেম সাহসিকতা, সুবক্তা এবং আর্দশ ন্যায় নীতি পরিক্ষিত ত্যাগী হিসেবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর আস্তা অর্জন করে ছিলেন। তৎকালিন বৃহত্তম নারায়নগঞ্জ মহাকুমা রায়পুরা থানার আলীনগর গ্রামের সাহেব বাড়ীতে ১৯৩৩ সালে মুসলিম পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন। তার পিতা মরহুম মৌলভী আহমেদ ও মাতা মরহুমা খাদেজা বেগম। তিনি
রায়পুরায় জন্মগ্রহণ করলেও রাজনৈতিক জীবন শুরু ও শেষ করেন নারায়ণগঞ্জ শহরে। তিনি ১৯৪৭ সালে মেট্রিক ১৯৪৯ সালে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আই এ, ১৯৫২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বি এ পাশ করেন। মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক এবং গণতান্ত্রিক আন্দোলনের একজন পুরোধা ব্যক্তিত্ব, ভাষাসৈনিক এ কে এম বজলুর রহমান তিনি ছিলেন জাতীর জনক বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ রাজনীতি সহচর। একজন নিষ্ঠাবান কর্মী ও সংগঠক হিসেবে একই সঙ্গে তৎকালীন আওয়ামী লীগের দুর্দিনের যোদ্ধা । বারবার জেল খেটেছেন, মাথায় হুলিয়া নিয়ে ফেরারী ছিলেন, অসংখ্যবার নির্যাতিত হয়েছেন।

নরসিংদী জেলা রায়পুরা উপজেলা পাড়াতলী ইউনিয়ন আলীনগরের সাহেব বাড়ীর কৃতি সস্তান স্বাধীনতা পদক প্রাপ্ত ভাষা সৈনিক এ কে এম বজলুর রহমান (১৯৩০ ৮ই ফেব্রুয়াারি ১৯৮৮) ছিলেন বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধা, রাজনীতিবিদ ও ভাষাসৈনিক। স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্য তিনি ২০২১ সালে স্বাধীনতা পুরস্কারে ভূষিত হন।
ভাষা সৈনিক এ কে এম বজলুর রহমান ছাত্রজীবনেই রাজনৈতিতে প্রবেশ করেন। তিনি ১৯৪৭ সালে পূর্ব পাকিস্থান ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ছিলেন। ২৩ জুন ১৯৪৯ সালে রোজ গার্ডেনে অনুষ্ঠিত আওয়ামী মুসলিম লীগের সভায় কারাবন্দি শেখ মুজিবুর রহমানের মুক্তির দাবিতে স্লোগান দেন। ১৯৫০ সালে শ্রমিক নেতা আইএলএর গর্ভণর বোর্ডের সদস্য ফয়েজ আহমেদের সঙ্গে তিনি শ্রমিক আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেন। সুতাকল, পাটকল ও জাহাজী শ্রমিকদের ট্রেড ইউনিয়ন সংগঠনে তিনি অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। তিনি ১৯৫২ সালে নারায়ণগঞ্জ মহকুমা ছাত্রলীগের সেক্রেটারি
ছিলেন। ২১ ফেব্রুয়ারি ১৯৫২ সালে রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে নারায়ণগঞ্জের চাষাঢা মোড়ে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে তিনি নেতৃত্ব দেন।
১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন ১৯৬২ সালের শিক্ষা আন্দোলন ১৯৬৬ সালের ছয় দফা এবং ১৯৭১ এর মুক্তিযুদ্ধে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
১৯৫৪ সালে নরসিংদীর রায়পুরায় যুক্তফ্রন্ট প্রার্থীর নির্বাচন পরিচালনা র দায়িত্ব দেওয়া হয় তাকে। তিনি সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৫৫ সালে নারায়ণগঞ্জ মহকুমা আওয়ামী লীগের সম্পাদক হন। ১৯৬৫ সালে তিনি ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের সম্পাদক হন। ৮ মে ১৯৬৬ সালে নারায়ণগঞ্জের চাষাড়া টাউন হল ময়দানে জনসভার আয়োজন করেন। ৯ আগস্ট ১৯৬৬ সালে গ্রেফতার হয়ে তিনি দেড় বছর কারাগারে ছিলেন। এ কে এম বজলুর রহমান মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশ সরকারের ইয়ুথ মুভমেন্টের ডেপুটি ডাইরেক্টরের দায়িত্ব পালন করেন এবং আগরতলায় ১৭টি গেরিলা ও যুব প্রশিক্ষণ কেন্দ্র প্রতিষ্ঠায় অবদান রাখেন। পরে তিনি দেশে এসে মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন।স্বাধীনতার পর ১৯৭৮ সালে আওয়ামী লীগের সাত সদস্য বিশিষ্ট প্রতিনিধি দলের নেতা হিসেবে পূর্ব জার্মানী সফর করেন।
সম্মাননা স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধ ক্যাটাগরিতে ২০২১ সালে স্বাধীনতা পুরস্কার লাভ। ভাষা সৈনিক এ কে এম বজলুর রহমান ৮ ফেব্রুয়ারি ১৯৮৮ সালে মৃত্যুবরণ করেন। নারায়ণগঞ্জের মাসদাইর কবরস্থানে তাকে সমাহিত করা হয়। পরবর্তী পর্যায়ে তিনি আওয়ামী লীগের জেলার সভাপতি ও কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য পদে দায়িত্ব পালন করেন। তার সহধর্মিনী সাহানারা বেগম এর ৮ পুত্র সন্তান রয়েছে। স্বামীর রাজনীতির কারনে ছোট ছোট সন্তান নিয়ে দু:খ কষ্টে জীবনের অনেক সময় পাড় করতে হয়েছিল। তাঁর ছেলেরা সবাই উচ্চ শিক্ষিত। তাঁর জৈষ্ঠ্য পুত্র হাসান জামিল বাদল আওয়ামীলীগের রাজনীতির সাথে র্দীঘদিন যাবৎ জড়িত রয়েছে। অধ্যাপক ড.সামসুজ্জামান, এডভোকেট মনিরুজ্জামান (পিপি) ও সেনাবাহিনীর ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এস এস এফ প্রধান মো: মুজিবুর রহমান, এ কে এম বজলুর রহমান ও শাহানারা বেগম ফাউন্ডেশনের পরিচালক, পাড়াতলী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আওয়ামীলীগ আহবায়ক আলহাজ¦ ফেরদৌস কামাল জুয়েল। মরহুমের সুযোগ্য নাতী এ কে এম বজলুর রহমান ও শাহানারা বেগম ফাউন্ডেশনের পরিচালক, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ নরসিংদী জেলা শাখার বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক ড.আসওয়াত আকসির মুজিব ওয়াসী । আরো জানাগেছে,জাতীর জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর রাজনীতিক সহচর,মুক্তিযোদ্ধের অন্যতম সংগঠক বর্ষিয়ান রাজনীতিবীদ ভাষা সৈনিক প্রয়াত এ.কে.এম বজলুর রহমান সু-বক্তা হিসেবে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেন একজন আলোকিত মানুষ হিসেবে দেশ স্বাধীনতার জন্য মহান মুক্তিযুদ্ধে, রাজনীতিক ,সামাজিক বিভিন্ন কর্মকান্ডের বিশেষ অবদান রেখে আমাদের মাঝে আজীবন অমর হয়ে থাকবে। তার দেশ প্রেম এর সাহসিকতা, অনেক ত্যাগ শিকার করে দেশের জন্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর সাথে বার বার কারা বরণ সহ সেই দিনের স্মৃতিগুলো আমরা স্মৃতি চারন করে আগামী দিনের নতুন প্রজন্মরা জানাতে হবে। এলাকার গুনীজনদের সর্ম্পকে সঠিক তথ্য তুলে ধরে হবে, প্রয়াত এ.কে.এম বজলুর রহমান সহ আমাদের এলাকার গুনীজনরা মহান স্বাধীনতা সংগ্রাম ও চরাঞ্চল উন্নয়নের জন্য যে অবদান রেখেছিল তাদেরকে সম্মানিত করে প্রকৃত সম্মান দিয়ে সব সময় স্বরনীয় করে রাখতে হবে। তাদের ভাল কাজের বিষেশ অবদানের কথা আমরা মনে না রাখলে আগামী দিনের নতুন প্রজন্মরা আমাদের ভাল কাজের অবদানের কথা মনে রাখবে না।
মরহুম এর দোয়া মাহফিলে জাতীর জনক বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবার, জাতীয় ৪ নেতা, প্রয়াত এ.কে.এম বজলুর রহমান সহ মুক্তিযুদ্ধের নিহত বীর সন্তানদের রোহের আত্মার মাগফেরাত কামনা করা
হয়। কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ে প্রতি বছর তার জন্ম ও শাহাদত বার্ষিকী পালন করা হয়।