সোনাগাজী হাঁস প্রজনন খামার এ নেই আধুনিকায়নের ছোঁয়া

গত দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে সংকটের বোঝা মাথায় নিয়ে উৎপাদনে এগিয়ে আছে সোনাগাজী উপজেলার আঞ্চলিক হাঁস প্রজনন খামার।

অথচ খামারে নেই আধুনিকায়নের ছোঁয়া। এতে দারিদ্র্য বিমোচনের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে স্থানীয়রাসহ আশপাশের জেলার মানুষ।

ফেনীর সমুদ্র উপকূলীয় উপজেলা সোনাগাজী।

কৃষি ও পশু পালনে অপার সম্ভাবনায় এ উপজেলায় ১৯৬৭ সালে সোনাগাজী বাজারের পশ্চিম পাশে ১০ একর ভূমিতে প্রতিষ্ঠিত হয় মেষ খামার।

এ অঞ্চলে মেষের উপযোগিতা না থাকায় কালক্রমে সেটি বন্ধ হয়ে যায়।

সেই খামারের একটি অংশে ২০০০ সালে শুরু হয় দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম হাঁস প্রজনন খামার।

হাঁস পালনের জন্য এখানে নির্মাণ করা হয় ৮টি শেড ও একটি হ্যাচারিসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো। যেগুলোর এখন জীর্ণদশা।

১১ কর্মকর্তা ও কর্মচারীর মধ্যে ৩ জনের পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য। এতে উৎপাদনে পিছিয়ে পড়ার শঙ্কায় খামারটি।

স্থানীয়রা বলেন, চাহিদা বেশি থাকায় এলাকাবাসীর মধ্যে হাঁস পালনে আগ্রহ বাড়ছে। তবে মিলছে না পর্যাপ্ত হাঁসের বাচ্চা।

তাদের অভিযোগ, হাঁসের বাচ্চা কিনতে হলে অন্তত এক মাস আগে থেকে অর্ডার দিতে হয়।

এদিকে উৎপাদনের অপ্রতুলতার কথা স্বীকার করে খামার আধুনিকায়নের নতুন পরিকল্পনা চলছে

বলে জানান সোনাগাজী আঞ্চলিক হাঁস প্রজনন খামারের উপপরিচালক মো. আবদুল খালেক।

তিনি বলেন, এখানে হাঁসের বাচ্চার প্রচুর চাহিদা রয়েছে।

এখন চাহিদার মাত্র ৩০ থেকে ৪০ মেটানো সম্ভব হচ্ছে। তবে বর্তমানে পরিকল্পনাধীন প্রজেক্টটি বাস্তবায়ন হলে সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।

খামারের হিসাব অনুযায়ী, গত অর্থবছরে ডিম উৎপাদনের ১ লাখ ৮০ হাজার লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে বাড়তি ২১ হাজার উৎপাদন হয়েছে।

আর বাচ্চার ৭০ হাজার লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে ১১ হাজার বেশি উৎপাদন হয়েছে।

উল্লেখ্য, প্রতি সপ্তাহের নির্দিষ্ট একটি দিনে খামারে একদিন বয়সের হাঁসের বাচ্চা ২০ টাকায় ও ২ থেকে ৩০ দিনের বাচ্চা ৩৫ টাকায় বিক্রি হয়।

খামারে উৎপাদিত হাঁসের জাতের মধ্যে রয়েছে বেইজিং, খাকি ক্যাম্বল, জিংডিং ও দেশি কালো হাঁস।

আরও পড়ুন :

এনএএন টিভি