নোবেল জয়ী বিজ্ঞানী শতবর্ষী জন গুডেনাফ আর নেই

না ফেরার দেশে চলে গেলেন লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি তৈরিতে বিপ্লব ঘটানো নোবেল পুরস্কার বিজয়ী প্রকৌশলী শতবর্ষী জন বি. গুডেনাফ।

এক বিবৃতিতে অস্টিনের টেক্সাস বিশ্ববিদ্যালয় জানায়, ‘যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় রোববার তাঁর মৃত্যু হয়। তবে তার মৃত্যুর কারণ জানানো হয়নি।’

গুডেনাফ ৩৭ বছর ধরে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ফ্যাকাল্টি সদস্য হিসাবে কাজ করেছিলেন।

উল্লেখ্য, লিথিয়াম ব্যাটারি তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছিলেন গুডেনাফ।

তাঁর কাজের ফলস্বরূপ লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি বর্তমানে বিশ্বজুড়ে লাখ লাখ বৈদ্যুতিক গাড়িতে শক্তি সরবরাহের কাজ করে যাচ্ছে।

এম. স্ট্যানলি হুইটিংহাম এবং আকিরা ইয়োশিনোর পাশাপাশি লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারির উন্নয়নের জন্য কাজ করে ২০১৯ সালে ৯৭ বছর বয়সে সবচেয়ে বয়স্ক হিসাবে রসায়নে নোবেল পান তিনি।

হালকা ওজনের কিন্তু শক্তিশালী, রিচার্জেবল এই লিথিয়াম ব্যাটারি প্রযুক্তি খাতে বিপ্লব ঘটিয়েছে।

ল্যাপটপ ও মোবাইল ফোনের মতো বহনযোগ্য ইলেকট্রনিক ডিভাইসের ব্যাপক প্রসার ঘটেছে।

একই সঙ্গে গাড়ি থেকে শুরু করে সোলার প্যানেলের মতো বড় বড় ডিভাইসও সচল রাখতে কাজ করছে এই লিথিয়াম ব্যাটারি।

১৯২২ সালে জার্মানিতে এক মার্কিন পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন ড. জন গুডেনাফ। তাঁর শৈশব কাটে যুক্তরাষ্ট্রের উত্তরপূর্বাঞ্চলে।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে মার্কিন সামরিক বাহিনীতে আবহাওয়াবিদ হিসেবে কাজ করেন তিনি।

ইয়েল ইউনিভার্সিটি থেকে গণিতে গ্রাজুয়েশন এবং ইউনিভার্সিটি অব শিকাগো থেকে পদার্থবিদ্যায় পিএইচডি করেন গুডেনাফ।

জন গুডেনাফ তার কর্মজীবন শুরু করেন ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজিতে। সেখানে তিনি ২৪ বছর অধ্যাপনা ও গবেষণায় নিয়োজিত ছিলেন।

তিনি কম্পিউটারের র‌্যাম তৈরিতে সহযোগিতা করেছিলেন।

এছাড়া, আধুনিক চুম্বক তত্ত্বের অন্যতম জনক ছিলেন গুডেনাফ। টেলিকমিউনিকেশন খাতে এ তত্ত্ব ব্যাপক কাজে দিয়েছে।

গুডেনাফের স্ত্রী আইরিন ওয়াইজম্যান ২০১৬ সালে মারা যান। ৭০ বছরেরও বেশি সময় ধরে বিবাহিত ছিলেন তারা।  তবে তাঁদের পরিবারে কোনো সন্তান ছিল না।

তার স্ত্রী মারা যাওয়ার পর স্ত্রীর সম্মানে নার্সিং-এ আইরিন ডব্লিউ. গুডেনাফ এনডাউড প্রেসিডেন্সিয়াল স্কলারশিপ প্রতিষ্ঠা করেন তিনি।

এনএএন টিভি