ইউক্রেনে প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র পাঠাবে যুক্তরাষ্ট্র। গতকাল রোববার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এ কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ইউক্রেনের আত্মরক্ষার জন্য এগুলো প্রয়োজন। কারণ, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন মুখে ভালো ভালো কথা বলেন, কিন্তু তারপর সন্ধ্যায় সবাইকে বোমা মারেন।
ইউক্রেনে কয়টি প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র পাঠাতে যাচ্ছেন, সে বিষয়ে ট্রাম্প কিছু বলেননি।। তবে তিনি বলেছেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন যুক্তরাষ্ট্রকে এই ক্ষেপণাস্ত্রের খরচ পরিশোধ করবে।
ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধবিরতি নিয়ে একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন ট্রাম্প। কিন্তু ট্রাম্পের এই প্রচেষ্টা রুশ নেতা পুতিনের সমর্থন পায়নি। তাই পুতিনের ওপর ক্রমেই বিরক্ত হয়ে উঠেছেন ট্রাম্প।
তিনি আরো জানান, ‘আমরা অত্যন্ত আধুনিক সামরিক সরঞ্জাম পাঠাচ্ছি। ইউক্রেন আমাদের পুরো ১০০ শতাংশ অর্থ দেবে, আমরাও সেটাই চাই।’
যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস জানায়, ট্রাম্প ইউক্রেনকে আক্রমণাত্মক অস্ত্র সরবরাহের একটি নতুন পরিকল্পনা ঘোষণা করতে যাচ্ছেন।
এটি হবে তার আগের অবস্থান থেকে একেবারে ভিন্ন। এর আগে ট্রাম্প ইউক্রেনকে সহায়তা দেওয়ার ক্ষেত্রে অনেকটা নিরুৎসাহী ছিলেন। তবে হোয়াইট হাউজ এই বিষয়ে কোনো তাৎক্ষণিক মন্তব্য করেনি। রয়টার্স এ খবর স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি।
উল্লেখ্য, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা মিত্রদের কাছে আরো প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের দাবি জানিয়েছেন। রাশিয়া প্রতিদিন ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়ে ইউক্রেনের অবকাঠামো ও জনবসতিকে টার্গেট করছে।
ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা তাদের প্যাট্রিয়ট পাঠাবো, যেটা তাদের খুব প্রয়োজন। পুতিন সত্যিই অনেক মানুষকে অবাক করেছে। মুখে ভালো কথা বলে, তারপর সন্ধ্যাবেলা সবাইকে বোমা মারে।
এটা আমার ভালো লাগে না।’ ট্রাম্প এ সপ্তাহে ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুটের সঙ্গে ইউক্রেন ও অন্যান্য ইস্যুতে বৈঠক করার কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ইউক্রেনকে সরবরাহ করা প্রতিটি সামরিক সরঞ্জামের অর্থ ফেরত পাবে যুক্তরাষ্ট্র এবং এই পদ্ধতিই তার প্রশাসন চায়। প্রসঙ্গত, সাম্প্রতিক সময়ে ট্রাম্পের সঙ্গে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সম্পর্ক টানাপোড়েনপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
ট্রাম্প দাবি করেছেন, পুতিন যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনার প্রস্তাবে সাড়া দিচ্ছেন না, যা তাকে হতাশ করেছে। সেই কারণেই এখন তিনি ইউক্রেনকে আরো শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ও আক্রমণাত্মক সামরিক সহায়তা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন।
