হেয়ার কেয়ার ও সিরামের ব্যবহার চুলের প্রাণ ফেরাতে

স্কিনকেয়ারের পাশাপাশি হেয়ার কেয়ারেও সিরামের ব্যবহার আছে। পরিবেশ দূষণ, সূর্যের উত্তাপের কারণে চুল নষ্ট হয়।

তাই চুলের হারানো দীপ্তি এবং চমক ফিরিয়ে আনার জন্য হেয়ার সিরাম ব্যবহার করা হয়।

মূলত, সিলিকন তেল থেকে হেয়ার সিরাম তৈরি হয় তাই এতে কোনো ক্ষতিকারক রাসায়নিক উপাদান থাকে না।

প্রত্যেকবার চুল ধোয়ার পর হেয়ার সিরামের প্রয়োগ চুল চকচকে করে তোলে।

হেয়ার সিরাম মূলত সিলিকন বেইজড এক ধরণের তরল বিউটি প্রোডাক্ট।

এই লিকুইডে অ্যামিনো অ্যাসিড ও সিরামাইড যুক্ত করা হয়।

ঠাণ্ডা আবহাওয়া, সূর্যের তাপ ও হিট স্টাইলিং করা হয় যেসব চুলে সেসব চুলে শুষ্কতা ও নানা সমস্যা দেখা দিতে পারে।

মূলত শুষ্কতা ও চুলের সমস্যা দূর করে ঔজ্জ্বল্য ফিরিয়ে আনার কাজ করে সিরাম।

সিরাম ব্যবহারে অল্পদিনেই ফলাফল পাওয়া যায়। কিন্তু সিরামের ব্যবহারের ক্ষেত্রে আছে কিছু করনীয়।

চুলের ধরণ অনুযায়ী সিরাম নির্বাচন করুন-
ব্যবহারের জন্য প্রতিদিন সিলিকন বেইজড সিরাম ব্যবহার করার প্রয়োজন নেই।

এতে চুলে বিল্ডাপ হয়ে ক্ষতি হতে পারে। চুলের দৈর্ঘ্যের ওপর নির্ভর করে ৩/৪ ফোঁটা সিরাম ব্যবহার করুন।

আপনার চুলের ধরন ও সমস্যা অনুযায়ী সিরাম বেছে নিতে হবে।

চুল লম্বা করতে হেয়ার গ্রোথ সিরাম এবং চুল নরম করতে অ্যান্টি ফ্রিজ সিরাম বেছে নিতে হবে।

যাদের তৈলাক্ত চুল তাদের খুব হালকা সিরাম বেছে নেওয়া উচিত। তাহলে দেখবেন আপনার চুল আর তৈলাক্ত মনে হচ্ছে না।

অন্যদিকে, ক্রিম ভিত্তিক সিরাম ঘন চুলের জন্য ভালো, এটি চুলকে পুষ্টির জোগান দেয়।

আর যদি আপনি চুলে ঘন ঘন স্টাইল করেন, স্ট্রেটনার, ড্রায়ার ইত্যাদি ব্যবহার করেন, তাহলে ক্যারোটিন যুক্ত হেয়ার সিরাম বেছে নিন।

এটি চুলকে ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করে। তা ছাড়া এতে চুল মজবুত হয়।

হেয়ার সিরাম ব্যবহারের নিয়ম-
হেয়ার সিরাম প্রয়োগ করার একটি কৌশল আছে। হেয়ার সিরাম ব্যবহার করার জন্য আপনাকে নির্দিষ্ট কিছু ধাপ অনুসরণ করতে হবে।

প্রথমত, একটি হালকা শ্যাম্পু দিয়ে আপনার চুল ধুয়ে নিতে হবে।

তারপর হাতের তালুতে অল্প পরিমাণে সিরাম নিয়ে তা আলতোভাবে ভেজা চুলের উপরিভাগে লাগিয়ে দিবেন।

চুলের গোড়ায় লাগানোর দরকার নেই। এখন চুল শুকানোর জন্য অপেক্ষা করুন। পরে এটি আর ধুয়ে ফেলারও প্রয়োজন নেই।

ঘরে তৈরি কফি মধুর হেয়ার সিরাম-
এই সিরামটি কন্ডিশনার-এর মতো ব্যবহার করা হয়। যা আপনার চুলকে মসৃণ করবে।

কফি চুলের গোড়া শক্ত করবে এবং চুলে একটি অতিরিক্ত রঙ যোগ করে আর মধু কমপক্ষে দুই দিনের জন্য আপনার চুলে উজ্জ্বল আভা ছড়াবে।

৪ চা চামচ কফি নিন, এর সাথে ২ টেবিল চামচ মধু মিশান, এতে আরও যোগ করুন ৪ টেবিল চামচ পানি।

এগুলো ভালো করে মিশিয়ে একটি পেস্ট বানান। ভেজা অথবা শুকনো চুলে লাগিয়ে ১৫-২০ মিনিট রাখুন। তারপর শ্যাম্পু করে ফেলুন।

সিরাম ব্যবহারে পাবেন এই ৩ উপকার-
আপনার চুলের পিএইচ ভারসাম্য ঠিক রাখে। ফলে চুলের ক্ষতি হয় না।

এ ছাড়া রোদ, দূষণ এবং অন্যান্য ক্ষতিকারক উপাদানের থেকেও আপনার চুলকে রক্ষা করে এই হেয়ার সিরাম।

স্টাইলিং টুল ব্যবহার করার আগে বা চুলে হিট প্রয়োগ করার আগে অবশ্যই হেয়ার সিরাম লাগিয়ে নিন।

নাহলে চুলের ক্ষতি হতে পারে। হেয়ার সিরাম চুলকে স্টাইলিং টুলের ক্ষতির হাত থেকেও রক্ষা করে।

সিরাম ব্যবহারে যা খেয়াল রাখবেন-
অতিরিক্ত পরিমাণে হেয়ার সিরাম লাগাবেন না। এতে চুলের টেক্সচার নষ্ট হয়।

আপনার চুলের দৈর্ঘ্য ও ঘনত্ব অনুযায়ী হেয়ার সিরাম নিন। সেটি আপনার চুলে লাগিয়ে নিন।

অতিরিক্ত বা স্বল্প হেয়ার সিরাম লাগাবেন না চুলে। অপরিষ্কার চুলে কখনও হেয়ার সিরাম লাগাবেন না।

এতে চুলের ক্ষতি হতে পারে। সব সময় শ্যাম্পু করা চুলেই হেয়ার সিরাম লাগানো অভ্যাস করুন।

এতে চুল ভালো থাকবে। জেল্লা দেখে প্রশংসা করবে সবাই। চুলের কোনও চিকিৎসা চললে বা স্ক্যাল্পে সংক্রমণ থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনও হেয়ার প্রোডাক্ট ব্যবহার করবেন না।

এনএএন টিভি

Share this news as a Photo Card