জনশক্তি প্রেরণ ইন্ডাস্ট্রির সংস্কার ও উন্নয়নে ৮ দফা প্রস্তাবনা দিয়েছে ইউরোপ ও উন্নত বিশ্বে কর্মী প্রেরণকারী সংগঠন রাবিড ও রাষ্ট্রচিন্তা।
বুধবার (৩০ অক্টোবর, ২০২৪) অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল সাথে সাক্ষাৎ করে রাবিড ও রাষ্ট্রচিন্তার নেতারা লিখিতভাবে এই সংস্কার প্রস্তাব দেন। এই সময় উপদেষ্টা তাঁর এই প্রতিশ্রুতির কথা জানান।
এই সময় উপস্থিত ছিলেন উপদেষ্টার একান্ত সচিব মো.সারওয়ার আলম, রাবিডের সভাপতি আরিফুর রহমান, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের অর্থনৈতিক সমন্বয়ক দিদারুল ভুঁইয়া, রাবিডের সাধারণ সম্পাদক ছিদ্দিকুর রহমান ভুঁইয়া, কোষাধ্যক্ষ সৈয়দা পারভীন আক্তার, রাবিডের সদস্য শান্তদেব সাহা, মো. ইলিয়াস হোসেন, মো. রেজাউল করিম, জাহাঙ্গীর আলম রাজ, রাবিড প্রতিনিধি হাবীবুল্লাহ।
আরো উপস্থিত ছিলেন রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের ঢাকা দক্ষিণ মহানগর কমিটির দপ্তর সমন্বয়ক এহসান আহমেদ, রাষ্ট্রচিন্তার সদস্য চারু হক, সাজেদুল ইসলাম সাজ্জাদ।
রাবিড ও রাষ্ট্রচিন্তার নেতারা বলেন, ‘ প্রতিবছর আমাদের চাকরির বাজারে ১৮ থেকে ২০ লাখ কর্মক্ষম মানুষ আসে। কিন্তু সরকারি-বেসরকারি সকল প্রতিষ্ঠান মিলে ৭/৮ লাখের বেশি বেকারের চাকরি দেওয়া যায় না। তাই এই মুহুর্তে বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও রেমিট্যান্স বাংলাদেশের প্রধান উপায় ও নিয়ামক শক্তি হিসাবে কাজ করছে। রিক্রুটিং এজেন্সি প্রায় পৌনে দুই কোটি কর্মী বিদেশে প্রেরণ করেছে। কর্মী গ্রহণকারী দেশের প্রতিষ্ঠান ও কর্মী প্রেরণকারী প্রতিষ্ঠান এবং বিদেশ গমনেচ্ছু কর্মীদের মধ্যে অনলাইন অ্যাপসের মাধ্যমে শূন্য অভিবাসন খরচে এই সেক্টরে বৈপ্লবিক পরিবর্তন করা সম্ভব।’
তাঁরা বলেন, ‘অভিবাসী কর্মীসহ সকল প্রবাসীকে ভোটার করার মাধ্যমে এই সেক্টরে গুরুত্ব বাড়ার সাথে সাথে যাদুকরী পরিবর্তন করা যাবে।’
ইউরোপ ও উন্নত দেশের দূতাবাস বা ভিসা কনস্যুলেট ঢাকায় দ্রুত চালু করার গুরুত্ব তুলে ধরেন রাবিড ও রাষ্ট্রচিন্তার নেতারা।
উল্লিখিত বিষয় ছাড়াও চলমান, বন্ধ ও নতুন শ্রমবাজারের উন্নয়ন, অধিক রেমিট্যান্স আহরণ, দূতাবাসের সক্ষমতা বৃদ্ধি, অভিবাসী ব্যয় সংকোচন, অভিবাসন সময় কমানো ও ভিসা বাণিজ্য রহিত, ডিজিটালাইজ করে সিন্ডিকেট ও মনোপলি ব্যবসা বন্ধ করাসহ ৮ দফা সংস্কার প্রস্তাব তুলে ধরা হয়।
উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল অত্যন্ত মনোযোগ দিয়ে বক্তব্যগুলো শুনেন এবং এই ইন্ডাস্ট্রির সংস্কারে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের প্রতিশ্রুতি দেন। তিনি রাবিড ও রাষ্ট্রচিন্তার নেতাদের সংস্কার প্রস্তাবনার জন্য ধন্যবাদ জানান।
ড. আসিফ নজরুল বলেন, ‘শীঘ্রই একটি সংস্কার কমিশন করে এই সেক্টরের উন্নয়নে সর্বোত্তম উদ্যোগ নিতে তার মন্ত্রণালয় কাজ করছে।’ ইউরোপ ও উন্নত দেশের দূতাবাস বা ভিসা কনস্যুলেট ঢাকায় দ্রুত চালু করার বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে কথা বলবেন বলে জানান।
আগামীতে রাবিড, রাষ্ট্রচিন্তা এবং আরো যারা এই সেক্টর নিয়ে কাজ করছে তাদের সকলের সঙ্গে কথা বলে সংস্কারের উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে বলে তিনি জানান।
