দেশের রপ্তানিমুখি পোশাক শিল্পে কর্মরত শ্রমিকের ন্যূনতম মজুরি ২৫ হাজার টাকা করার দাবি জানিয়েছে গার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র। এজন্য অবিলম্বে মজুরি বোর্ড গঠনের দাবিতে শ্রম মন্ত্রণালয় অভিমুখে বিক্ষোভ ও স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে।
আজ বুধবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে থেকে শ্রম মন্ত্রণালয় অভিমুখে শ্রমিকদের বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়। মিছিলটি পুরানা পল্টন মোড় ঘুরে জিরো পয়েন্ট হয়ে সচিবালয়ের কাছে পৌঁছলে ব্যাপক পুলিশি বাধার মুখে পড়ে। সেখানেই বিক্ষোভ সমাবেশ করে মিছিলকারীরা। পরে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সাদেকুর রহমান শামীমের নেতৃত্বে ৫ সদস্যের প্রতিনিধিদল মন্ত্রণালয়ে স্মারকলিপি প্রদান করে।
গার্মেন্ট টিইউসির কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি মন্টু ঘোষের সভাপতিত্বে এবং সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ শাহজাহানের পরিচালনায় সমাবেশে বক্তব্য দেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সাদেকুর রহমান শামীম, সহসভাপতি জলি তালুকদার ও জিয়াউল কবির খোকন, কেন্দ্রীয় নেতা দুলাল সাহা, মঞ্জুর মঈন ও আজিজুল ইসলাম, প্যারাডাইস কেবল শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মোহাম্মদ রাসেল প্রমুখ।
সমাবেশে শ্রমিকনেতা মন্টু ঘোষ বলেন, ‘পোশাক শিল্পের মালিকরা অর্থনীতির চরম দুর্দিনে ডলারে তাদের মুনাফার অংক গুনছেন কিন্তু শ্রমিক মজুরি পাচ্ছে টাকায় এবং ৫ বছর আগে নির্ধারণ করা হিসেবে। ২০১৮ সালে সর্বশেষ ঘোষিত নিম্নতম মজুরি সে সময়ের প্রেক্ষাপটে শ্রমিকদের প্রয়োজন, বাজারদর এবং দাবির সাথে সামান্যও সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল না।’
তিনি আরো বলেন, ‘গত কয়েক বছরে জিনিসপত্রের দাম ও বাড়ি ভাড়া বহু গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। শ্রমিকদের শুধু নয়, বর্তমান পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের অবস্থা চরম বেগতিক। এই অবস্থায় বিদ্যমান মজুরি দিয়ে পোশাক শিল্পের শ্রমিকদের পক্ষে কোনো রকম জীবন ধারণ করাও সম্ভব হচ্ছে না।’
শ্রমিকনেতা সাদেকুর রহমান শামীম বলেন, ‘সরকার দ্রুত মজুরি বোর্ড গঠন করে গার্মেন্ট শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধি না করলে শ্রমিকদের পুঞ্জিভূত ক্ষোভ চলমান নিয়মতান্ত্রিক বিক্ষোভে সীমাবদ্ধ থাকবে না। বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। সরকারের উদাসীনতা অতীতের মতো আরো একটি শ্রমিক বিদ্রোহের জন্ম দিলে তার দায় দায়িত্বও সরকারকেই নিতে হবে।’
গার্মেন্ট টিইউসির সহসভাপতি জলি তালুকদার বলেন, ‘বর্তমান বাজারে অন্তত ২৫ হাজার টাকার কম মজুরিতে কারো পক্ষে বাঁচা সম্ভব নয়। তাই এক মুহূর্ত বিলম্ব না করে শ্রমিকের মজুরি পুনঃনির্ধারণ করতে হবে। শ্রমিকরা কোনো দয়া-দাক্ষিণ্য চাচ্ছে না। শ্রমিকরা অধিকারের জন্য লড়াই করছে।’ তিনি দাবি আদায়ে সরকার ও মালিক পক্ষকে বাধ্য করতে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
