১৩ ইনিংস পর মুশফিকের সেঞ্চুরি ,গলে দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন

১০ মাস পর গলে দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন,১৩ ইনিংস পর ,১২তম সেঞ্চুরির দেখা পেলেন মুশফিক -শান্তর সঙ্গেও রেকর্ড জুটি

বাংলাদেশের ক্রিকেটপ্রেমীদের জন্য আবারও স্বস্তির খবর। টেস্ট ফরম্যাটে দলের দুই নির্ভরযোগ্য ব্যাটার — মুশফিকুর রহিমনাজমুল হোসেন শান্ত — গল টেস্টের প্রথম ইনিংসে অসাধারণ ব্যাটিং উপহার দিয়েছেন। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টাইগাররা যখন ব্যাটিং বিপর্যয়ের মুখে পড়ে, তখন হাল ধরেন এই দুই অভিজ্ঞ ও দায়িত্বশীল ব্যাটার।

মঙ্গলবার (১৭ জুন) টসে হেরে ব্যাটিংয়ে নামে বাংলাদেশ। শুরুতেই মাত্র ৪৫ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়ে যায় সফরকারীরা। দলকে বড় ধস থেকে বাঁচাতে তখনই মাঠে নামেন মুশফিক ও শান্ত। তারা গড়েন ২৪৭ রানের অবিচ্ছিন্ন পার্টনারশিপ, যা বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসে চতুর্থ উইকেটে তৃতীয় সর্বোচ্চ জুটি।

দীর্ঘ ১০ মাস ও ১৩ ইনিংসের অপেক্ষা শেষে আবারও শতরানের ম্যাজিক ফিগার স্পর্শ করলেন বাংলাদেশের অন্যতম অভিজ্ঞ ব্যাটার মুশফিকুর রহিম। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে গলের মাটিতে প্রথম টেস্টের প্রথম ইনিংসে অসাধারণ ব্যাটিং করে তিনি তুলে নেন নিজের ১২তম টেস্ট সেঞ্চুরি

এদিন শুধু মুশফিকই নয়, সেঞ্চুরির দেখা পেয়েছেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত-ও। ১৮ মাস পর তিনি করলেন নিজের ৬ষ্ঠ টেস্ট শতক। বাংলাদেশ যখন মাত্র ৪৫ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে, তখন এই দুই ব্যাটার গড়ে তোলেন দুর্দান্ত এক ২৪৭ রানের জুটি — যা টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের ইতিহাসে চতুর্থ উইকেটে তৃতীয় সর্বোচ্চ পার্টনারশিপ

 মুশফিকের প্রত্যাবর্তন

মুশফিক তার সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন ১৭৬ বলে, এই ইনিংসে তিনি দারুণ ধৈর্য ও নিয়ন্ত্রণ দেখান। গত বছরের আগস্টে পাকিস্তানের বিপক্ষে ১৯১ রানের ইনিংস খেলার পর আর কোনো শতক ছিল না তার। এর মধ্যে সাত টেস্টের ১৩ ইনিংসে সর্বোচ্চ স্কোর ছিল মাত্র ৪০। গলে তার এই ইনিংস তাই “প্রত্যাবর্তনের বার্তা” হিসেবে ধরা হচ্ছে।

 শান্তর ধৈর্যের ইনিংস

অন্যদিকে, অধিনায়ক শান্ত করেন ২০২ বলে শতক। এই ইনিংসে ছিল ১১টি চার ও ১টি ছক্কা। ব্যাটিং বিপর্যয়ের সময় দলের দায়িত্ব নিয়ে ঠান্ডা মাথায় খেলেন তিনি। বিশেষজ্ঞরা ইতিমধ্যে এটিকে তার ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা ইনিংস বলে অভিহিত করেছেন।

 বর্তমান স্কোর (প্রতিবেদন লেখার সময়):

বাংলাদেশ – ৩ উইকেটে ২৮০ রান
উইকেটে আছেন – মুশফিকুর রহিম (অপরাজিত)নাজমুল হোসেন শান্ত (১২৯)*

স্মৃতিময় গল মাঠ

প্রসঙ্গত, গলেই মুশফিকুর রহিম তার প্রথম ডাবল সেঞ্চুরি করেছিলেন। সেই মাঠে আবারও শতক তুলে নিয়ে যেন পুরোনো স্মৃতির সঙ্গে নতুন এক বার্তা দিয়েছেন তিনি—ফিরে এসেছেন পুরোনো ফর্মে।

এই ইনিংস শুধু স্কোরবোর্ড নয়, মানসিকভাবেও দলকে চাঙ্গা করবে। শ্রীলঙ্কার মাঠে তাদেরই বিপক্ষে এমন দৃঢ় জুটি বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য বড় বার্তা বয়ে আনবে। মুশফিকের মতো অভিজ্ঞ ব্যাটার ও শান্তর মতো তরুণ নেতৃত্বের এমন ইনিংস ভবিষ্যতের জন্য দিকনির্দেশনামূলক।

এন এ এন টিভি