ঈদুল আজহায় মুক্তিপ্রাপ্ত সিনেমা ‘সুড়ঙ্গ’ পাইরেসির কবলে পড়েছে। বিভিন্ন অনলাইন প্লাটফর্মে ছড়িয়ে পড়েছে সিনেমাটি।
রায়হান রাফীর ‘সুড়ঙ্গ’ যখন বাংলাদেশ জয় করে পশ্চিমবঙ্গেও ঝড় তুললো, তখন কোনও একটি পক্ষ ছবিটির কপি রেকর্ড করে ছেড়ে দিলো অনলাইনে।
যদিও বিষয়টি মোটেও ভালোভাবে নেননি ‘সুড়ঙ্গ’র নির্মাতা রায়হান রাফী। এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে পাইরেসি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তিনি।
একই সঙ্গে যারা জঘন্য এ কাজটি করেছেন, তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়ার ঘোষণাও দিয়েছেন রাফী।
বুধবার (২৬ জুলাই) রাতে এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে রাফী লেখেন,
‘একটা ফিল্মকে পাইরেসি করা হলো পরিকল্পনা করে। শুরুতেই ছেড়ে দেয়া হলো গুরুত্বপূর্ণ দৃশ্যগুলো।’
‘তারপর নিজেদের লোক দিয়ে ফেসবুক, ইউটিউবে সেটা ভাইরাল করে দেয়ার চেষ্টা হলো। এরপর এখন তো পুরো সিনেমাই।’
বাংলাদেশ থেকেই এ কাজটি করা হয়েছে দাবি করে রাফী লেখেন,
‘শুরুতে ভারতীয় বিজ্ঞাপন জুড়ে দেয়া হলো যেন মনে হয় ভারত থেকে পাইরেসি হয়েছে। কিন্তু পাইরেসি হয়েছে বাংলাদেশের ভার্সন।’
‘সিনেমার দুই দেশের ভার্সনে কী কী ফারাক, সেগুলো আর কেউ না জানলেও আমরা তো জানি।’
‘একটি সুনির্দিষ্ট চক্র সুড়ঙ্গের পেছনে লেগেছে, তাদের কারণে পাইরেসির শিকার হয়েছে সুড়ঙ্গ।’
‘এই পাইরেসি কারা করেছে, তা আমরা চিহ্নিত করছি। এটা বাংলাদেশ থেকেই হচ্ছে। আমাদের সঙ্গে আইনি সংস্থাগুলোও কাজ করছে।’
‘ভিডিওগুলো যারা অনলাইনে ছড়িয়েছে; ফেসবুক, ইউটিউব, টেলিগ্রাম, হোয়াটসঅ্যাপ,
বিভিন্ন সাইটে আপলোড করেছে কিংবা শেয়ার করেছে, তাদের সবার বিরুদ্ধে লিগ্যাল অ্যাকশন নেয়া হচ্ছে।’
‘পাইরেসি শাস্তিযোগ্য অপরাধ এবং এই অপরাধের শাস্তি অপরাধীদের পেতেই হবে। আমরা সেটা নিশ্চিত করবোই।’
রাফী আরও লেখেন,
‘আরেকটি কথা না বললেই নয়, যেকোনো ইস্যু নিয়ে কত লেখালেখি হয়, ভিডিও কনটেন্ট হয়, প্রতিবাদ হয়। অথচ এই বিষয়ে তারা নিশ্চুপ!’
‘অনেককেই দেখছি আমাদের সিনেমা পাইরেসি হয়ে যাওয়াকে সেলিব্রেট করতে।’
‘কিন্তু তারা জানে না, যারা সত্যিকারের সিনেমাপ্রেমী, তারা পাইরেসির সিনেমা দেখছে না। তারা হলে গিয়েই দেখছে।’
‘এখনো দেশে সুড়ঙ্গ হাউজফুল, টিকেট পাওয়া যাচ্ছে না।’
‘দেশের সীমারেখা পেরিয়ে সুড়ঙ্গ দারুণ সাফল্য পাচ্ছে বিশ্বজুড়ে। আমেরিকায় ১০৮টি হল পাচ্ছে, কলকাতায় দারুণ সাফল্য পেয়েছে, সবার মুখে মুখে সুড়ঙ্গ।’
‘যদিও কলকাতায় আমাদের পরীক্ষামূলক মুক্তি ছিলো, যা নিয়ে আমি আমার ইন্টারভিউগুলোতে বলেছিলাম যে আমরা অনেক বেশি আশা করছি না।’
‘তবুও যতটুকু আলোচনা হয়েছে, যতটুকু ভালোবাসা পেয়েছি – তাতে আমরা খুশি।’
‘কারণ সুড়ঙ্গের মাধ্যমে বাংলাদেশি সিনেমার এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে।’
‘সামনে মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের নানা দেশে মুক্তি পাচ্ছে সুড়ঙ্গ।’
‘বাংলাদেশি সিনেমার জন্য নিঃসন্দেহে এ এক দারুণ প্রাপ্তি। সুড়ঙ্গকে থামিয়ে রাখা যাবে না। আমাদের দমিয়ে রাখা যাবে না।’

Comments are closed.