ঘূর্ণিঝড় এর কারনে স্থবির থাকা বাণিজ্য আবার সচল হয়েছে

ঘূর্ণিঝড় মোখার কারণে টানা ৪৮ ঘণ্টা স্থবির থাকা দেশের আমদানি-রফতানি বাণিজ্য আবারও সচল হতে শুরু করেছে।

দুই দিনে প্রায় ৫০০ কোটি টাকা মূল্যের বাণিজ্যিক ক্ষতির পর সকাল থেকে পুরোদমে চালু হয়েছে চট্টগ্রাম বন্দরের কার্যক্রম।

চট্টগ্রাম বন্দরের সিসিটি থেকে এনসিটি ও অন্যান্য জেটির সব কটিতেই এখন জাহাজের অবস্থান।

গভীর সাগরে অবস্থান নেয়া অন্তত ৬০টি মাদার ভ্যাসেল বহির্নোঙরে ফিরে এসেছে।

পাশাপাশি প্রধান জেটিতে আনা হয়েছে কনটেইনারবাহী জাহাজ। চলছে কনটেইনার ওঠানামার পাশাপাশি ডেলিভারির কর্মযজ্ঞ।

এর আগে বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় মোখার ক্ষতি থেকে রক্ষা পেতে শুক্রবার (১২ মে) মধ্যরাতে বন্ধ করে দেয়া হয় চট্টগ্রাম বন্দরের কার্যক্রম।

প্রধান জেটিতে অবস্থানরত ২০টি ও বহির্নোঙরের ৬০টি জাহাজকে পাঠিয়ে দেয়া হয় গভীর সাগরে।

তবে ঘূর্ণিঝড় মোখার প্রভাব কেটে যাওয়ায় রোববার (১৪ মে) রাতেই বন্দর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয় বন্দর কর্তৃপক্ষ।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব মোহাম্মদ ওমর ফারুক বলেন, ঝড় থেমে যাওয়ায় এরই মধ্যে ১৭টি জাহাজ বন্দরে চলে এসেছে।

বাকি জাহাজগুলোও খুব শিগগিরই ফিরে আসবে। পাশাপাশি পুরোদমে শুরু হয়েছে বন্দরের কাজ।

তবে ঘূর্ণিঝড় মোখায় চট্টগ্রাম বন্দরের তেমন ক্ষতি না হলেও অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে জাহাজগুলো।

প্রতিটি জাহাজকে বন্দরে এক দিন বাড়তি অবস্থানের জন্য ১৫ থেকে ২০ হাজার মার্কিন ডলার খরচ করতে হয়েছে।

সাইফ পাওয়ারটেক লিমিটেডের নির্বাহী পরিচালক নাজমুল হক জানান, ঝড়ের কারণে আর্থিকভাবে কিছুটা ক্ষতি হয়েছে।

তবে বন্দরে পুরোদমে কাজ শুরু হওয়ায় ক্ষতি পুষিয়ে নেয়া সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

এদিকে দুদিন কর্ণফুলী নদীতে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকা ৪০০টির বেশি পণ্যবাহী লাইটারেজ জাহাজও নদীবন্দর ও ঘাটের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেছে।

উল্লেখ্য, দেশের আমদানি-রফতানি বাণিজ্যের ৯২ শতাংশ সম্পন্ন হয় চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে।

দুর্ঘটনা কিংবা প্রাকৃতিক দুর্যোগের মুখে এ বন্দরের কার্যক্রম বন্ধ হলে বিপর্যয়ের কবলে পড়ে দেশে আমদানি-রফতানি বাণিজ্য।

আরও পড়ুন :

এনএএন টিভি