পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের শতদ্রু নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আর এর ফলে গতকাল শনিবার সেখানকার অন্তত ১৯ হাজার মানুষকে তাদের ঘরবাড়ি থেকে সরিয়ে নিয়েছে।
পাঞ্জাবের গন্ডা সিং ওয়ালা এলাকার বন্যা পরিস্থিতি সবচেয়ে সংকটজনক। এ পরিস্থিতি পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টা পর্যন্ত অপরিবর্তিত থাকবে।
প্রাদেশিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা (পিডিএমএ) আজ রোববার থেকে আগামী বুধবার পর্যন্ত ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাসের মধ্যে বেশ কয়েকটি জেলার বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়া ও জরুরি অভিযান শুরু করেছে।
পাঞ্জাবের মধ্য ও দক্ষিণাঞ্চলের জেলা প্রশাসন নদীতীরবর্তী মানুষদের দ্রুততার সঙ্গে নিরাপদে সরিয়ে নিচ্ছে। রেসকিউ ১১২২–এর মুখপাত্র ফরুক আহমদ জানান, প্রদেশের বিভিন্ন বন্যাকবলিত এলাকা থেকে ১৯ হাজারের বেশি মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
ফরুক আহমদ আরও জানান, কাসুর, ওকারা, পাকপত্তন, বাহাওয়ালনগর ও ভেহারি জেলায় উচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। সিন্ধু, চন্দ্রভাগা, রাভি, শতদ্রু ও ঝিলম নদীসংলগ্ন এলাকা থেকে ১৯ হাজার ৯৪৭ জনকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
প্রাদেশিক মন্ত্রী ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনাবিষয়ক মন্ত্রিসভা কমিটির সভাপতি খাজা সালমান রফিক এক জরুরি বৈঠক শেষে বলেন, ‘শতদ্রু ও রাভি নদীর চরাঞ্চলের মানুষদের সরিয়ে নেওয়াই আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। নাগরিকদের সুরক্ষায় সব ধরনের সম্পদ কাজে লাগানো হচ্ছে।’
মিশ্র চিত্র
পাঞ্জাবজুড়ে নদীর পরিস্থিতি মিশ্র ধরনের দেখা যাচ্ছে। তারবেলা ও কালাবাগে ইন্দুস নদীর পানি বাড়ছে, তবে চন্দ্রভাগা ও রাভি নদী বর্তমানে স্বাভাবিক সীমার মধ্যে রয়েছে। ডেরা গাজি খান অঞ্চলের পাহাড়ি ঢলও আপাতত স্বাভাবিক থাকলেও নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক পরিস্থিতি শতদ্রু নদীতেই। সেখানকার জলালপুর পীরওয়ালার মতো এলাকার মানুষকে সরিয়ে নেওয়ার কাজ চলছে ব্যাপকভাবে। মুলতানের ডেপুটি কমিশনার ওয়াসিম হামিদ সিন্ধু বলেন, ‘আমরা সম্ভাব্য ক্ষতি এড়াতে বাসিন্দাদের স্থানান্তর শুরু করেছি। মানুষের জীবন ও সম্পদ রক্ষাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য।’
এই জরুরি তৎপরতার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে নতুন আবহাওয়া সতর্কতা। পাকিস্তান আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, ২৪ থেকে ২৭ আগস্ট পর্যন্ত মৌসুমি বৃষ্টির ‘অষ্টম ধাপ’ শুরু হবে। এতে পাঞ্জাবের উত্তরাঞ্চলসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রবল বর্ষণ হতে পারে।

One Reply to “পাকিস্তানের পাঞ্জাবে বন্যার সর্বোচ্চ সতর্কতা, সরানো হল ১৯ হাজার মানুষকে”
Comments are closed.