ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার পতনের পর এক বছর পেরিয়ে গেলেও ঐক্যের চেয়ে বাংলাদেশে বিভক্তির সুরই প্রকট হয়ে উঠেছে। কিন্তু এর পেছনে কারণগুলো কী?
২০২৪ সালে শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে গণঅভ্যুত্থানে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পতন ও তার ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পর অনেকেই মনে করেছিলেন এক নতুন সূচনার দ্বারপ্রান্তে রয়েছে বাংলাদেশ।
১৫ জুলাই, ২০২৪ শুরু হওয়া সহিংসতায় শত শত মানুষের মৃত্যুর পর দেশকে গণতন্ত্রে ফিরিয়ে আনতে একটি বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন, নির্বাচনি ও সাংবিধানিক সংস্কার এবং দেশে শান্তি ফিরিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব নিয়েছিলেন শান্তিতে নোবেল জয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
কিন্তু এক বছর পরও ইউনূসের নেতৃত্বাধীন প্রশাসন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে হিমশিম খাচ্ছে। ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা, ধর্মীয় মেরুকরণ এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি পরিস্থিতিকে চ্যালেঞ্জিং করে তুলেছে।
বাংলাদেশে গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা প্রকট আকার ধারণ করেছে। হাসিনাকে উৎখাতে নেতৃত্ব দেওয়া শিক্ষার্থীদের একাংশ একটি নতুন রাজনৈতিক দল গঠন করেছে। দেশটির দুই প্রধান রাজনৈতিক দল- বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল- বিএনপি এবং হাসিনার আওয়ামী লীগের প্রভাব বলয় ভেঙে ফেলার প্রতিশ্রুতি দিয়ে এই জাতীয় নাগরিক দল- এনসিপি গঠন করা হয়েছে।
কিন্তু দলটির বিরোধীদের অভিযোগ, ইউনূস-নেতৃত্বাধীন প্রশাসনের ঘনিষ্ঠ এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে ব্যবহার করে রাজনৈতিক সুবিধার জন্য বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে এনসিপি।
মে মাসে ‘বিচার হওয়ার আগ পর্যন্ত’ আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়। দলটির প্রধান শেখ হাসিনা মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে বিচারের মুখোমুখি হয়েছেন। সে শূন্যস্থান পূরণের চেষ্টা করছে সব দলই।
একসময়ের নির্বাচনি জোটসঙ্গী বিএনপি এবং জামায়াতে ইসলামী দুই দলই এখন প্রশাসন ও বিচার বিভাগ, এমনকি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসেও আধিপত্য প্রতিষ্ঠা নিয়ে মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছে।
সংস্কারের ব্যাপারে বিভিন্ন দলের মধ্যে ঐক্য থাকলেও ঠিক কতটুকু সংস্কার হলে নির্বাচন দেওয়া যাবে, এ নিয়ে রয়েছে ব্যাপক অনৈক্য। শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগ এবং তৎকালীন বিরোধী দল জাতীয় পার্টি ছাড়া বাকি রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা চালাচ্ছে অন্তর্বর্তী সরকারের ঐকমত্য কমিশন।
ড. ইউনূসের অধীনে বাংলাদেশে মানবাধিকার ক্রমশ একটি গুরুতর উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
সংখ্যালঘু সম্প্রদায়, বিশেষ করে হিন্দুরা পর্যাপ্ত সুরক্ষা দিতে ব্যর্থতার জন্য প্রশাসনকে দায়ী করেছে। বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ জানিয়েছে, গত বছর শত শত হামলার ঘটনায় সংখ্যালঘু হিন্দু এবং অন্যান্যরা আক্রান্ত হয়েছেন। শেখ হাসিনার দলও কয়েক হাজার সমর্থককে গ্রেপ্তারের জন্য অন্তর্বর্তী সরকারকে দায়ী করেছে।
হাসিনার ১৫ বছরের শাসনামলে দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ অংশীদার ছিল বাংলাদেশ। তার ক্ষমতাচ্যুতির পর ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সরকার তুলনামূলকভাবে ভারতের আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বী চীনের দিকে বেশি ঝুঁকেছে।
ইউনূসের প্রথম রাষ্ট্রীয় সফর ছিল মার্চ মাসে চীনে। সেই সফরে তিনি বিনিয়োগ, ঋণ এবং অনুদানের ব্যাপারে সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি আদায় করতে পেরেছেন।

3 Replies to “হাসিনা-পরবর্তী বাংলাদেশে গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা প্রকট”
Comments are closed.